
সততা যদি মানুষকে নি:স্ব করে ও সবচেয়ে প্রিয় মানুষ না ফেরার দেশে চলে যায়!
অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মদ আলী আসগর
————————–
আমার বাবা পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সরকারি খাদ্য বিক্রেতা ছিলেন। এলাকায় ক্যাশ টাকা আমার বাবার কয়েকজনের মধ্যে একজন হিসেবে সবচেয়ে বেশি ছিলো, তা পাকিস্তান আমল থেকে। বাবা যদি জমি কিনতেন, আমাদের হাজার বিঘার বেশি জমি থাকতো। বাবা জমি ক্রয় করেননি, তবে মায়ের অনুরোধে দুটি বাড়ি করেছিলেন। ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে বাজারে লবনের দাম প্রায় ৪০ টাকা সের/কেজি হলেও, বাবা হাজার হাজার মানুষ কে রাত ১২ টা পর্যন্ত পর্যন্ত পঞ্চাশ পয়সা সের দরে লবণ বিক্রি করেছিলেন। আমি যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, বাবা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে যান। তারপর বাবা প্রায় ১২ বছর বেঁচেছিলেন, তবে ব্যবসা করতে আর পারেননি এবং পরবর্তীতে ক্যান্সারে মারা যান। বাবা আমাদের চার ভাইবোনের পড়াশোনা ও সংসার খরচের জন্য একটা বাড়ি বিক্রি করে দেন। আমি পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে বাবা-মার প্রতি ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব পালন সহ ও ছোট ভাইবোনদের পড়াশোনা ও বিয়ের হাল ধরি এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তা আমি সফলভাবে করেছি। আমি জাপানে থাকাকালীন বাবার ক্যান্সার হওয়ায়, আমি সিদ্ধান্ত নেই আমার সঞ্চয়ের টাকা বাবার চিকিৎসার জন্য ব্যয় করবো। দেশে দুই লাখ টাকা প্রাথমিক ভাবে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু টাকা পৌছানোর ২/১ দিনের মধ্যে বাবা মারা যান। আমি সেই টাকা আর ফেরত নেইনি এবং পরবর্তীতে মা ও ভাইবোনদের জন্য নিয়মিত দেশে টাকা পাঠাই।
আমি ২০১২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুল প্রফেসর হই এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলের প্রভোস্ট হিসেবে ২০১৬ সালে যোগদান করি। মতিহার হল তখন টিন শেডের ছিলো। মতিহার হলের টিন শেডের চেম্বারের ছাদ থেকে আমার মাথায় বৃষ্টির পানি পড়তো। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনে শতাধিক পত্র দিয়ে মতিহার হলের চারটি ভবন নির্মাণ করিয়ে ছাত্রদের থাকার ব্যবস্থা করি। আমি মতিহার হলের প্রভোস্ট হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি মাসে ছয় হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পেতাম। আমি সেই টাকা মতিহার হলের কর্মচারীদের ওভার টাইম ও আর্থিক সহযোগিতায় খরচ করেছি (ওপেনলি বললাম, অসত্য হলে কমেন্টে প্রতিবাদ করবেন)। একজন প্রহরী কয়েক হাজার টাকার প্রভিডেন্ট ফান্ড তোলার জন্য আমার স্বাক্ষর নিতে আসলে, আমি কাগজ ছিড়ে ফেলে, আমার পকেট থেকে নি;শর্তে তাকে টাকা দিয়েছি। অন্য একজন প্রহরীর স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে, আমি তার স্ত্রীর ২/৩ বার কেমোথেরাপি দেওয়ার খরচ আমি দিয়েছিলাম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে বই কেনায় কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করেছি। যে দুই জন শিক্ষার্থী সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছিল, তারা বিদেশে পিএইচডি করছে কিন্তু কখনও আমার খোঁজ নেয়নি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আব্দুস সোবহান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা শিথিল করে তার মেয়ে জামাতাকে শিক্ষক নিয়োগ দিলে, আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে লিখিত অভিযোগ করি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আমি ২০২০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নিজের টাকায় করোনার মধ্যে ট্যাক্সি রিজার্ভ করে ঢাকা গিয়ে অন্য তিন জন শিক্ষকের সহযোগিতায় অনিয়ম প্রমাণ করে দেই। ফলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে তিন বছর সকল ধরনের নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রফেসর আব্দুস সোবহান আমার ওপর অপবাদ চাপিয়ে আমাকে ক্রপ সায়েন্স বিভাগের সভাপতি নিয়োগ না দেওয়ায়, আমি অপবাদ মিথ্যা প্রমাণ করতে হাইকোর্টে রীট পিটিশন করে আমি জয়লাভ করার পরে, পরবর্তী উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তারের সাথে আপোষ না করায় আমাকে ক্রপ সায়েন্স বিভাগের সভাপতি নিয়োগ না দিয়ে আপিল করে, যা বিচারাধীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাইকোর্ট রায়ের পরে কোন উপাচার্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কখনও আপিল করেন নি। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের লড়াইয়ে আমার বিপুল অংকের টাকা খরচ হয়েছে, অপবাদ ঘোচাতে। আমার সম্প্রতি মৃত পুত্র আট বছর যাবত ভারতে তিন বার অপারেশন সহ চারবার ভারতে যাওয়া এবং ২০২৫ সালের প্রথম দিকে স্কয়ার হসপিটালের আইসিইউ ও কেবিনে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির কল্যাণ তহবিলে প্রতিমাসে আমি ও অন্যান্য শিক্ষকগণ দুই শত টাকা চাঁদা দেওয়া সহ আমি অনেক শিক্ষকের চিকিৎসায় চাকরি জীবনে লক্ষাধিক টাকা ডোনেশন দেওয়া সত্ত্বেও, গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর হাবিবুর রহমান (প্রাণরসায়ন বিভাগ) ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ওমর ফারুক সরকার (মার্কেটিং বিভাগের একজন নারী নিপীড়ন কারী শিক্ষক) উভয়ে সাবেক উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তারের ঘনিষ্ঠ মানুষ হওয়ায়, নিয়ম ও চর্চা থাকা সত্ত্বেও আক্রোশ বশত আমাকে আমার হৃদরোগের চিকিৎসার (রিং সংযোজন সহ পেস মেকার লাগানো) জন্য কোন টাকা না দিয়ে, প্রফেসর হাবিবুর রহমান ও প্রফেসর ওমর ফারুক সরকার তাদের পছন্দের একজন অসুস্থ শিক্ষককে আমার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের দুই মাসের বেতন থেকে টাকা কর্তন করে একই সময়ে তেইশ (২৩) লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে।
আমার ইচ্ছে ছিলো, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কল্যাণ তহবিল থেকে গত নভেম্বর মাসে টাকাটা পেলে আমার হৃদরোগের ও আমার পুত্রের চিকিৎসা করবো। আমার পুত্র যথাসময়ে সুচিকিৎসার অভাবে নিউমোনিয়া ও সেপটিসিমিয়া রোগে গত ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে রাজশাহী শহরের সিডিএম হসপিটালে আইসিইউ তে লাইভ সাপোর্টে থাকাকালীন মারা গেছে।
আমার হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য কারোও পক্ষে সম্ভব হলে, নিম্নের আমার বিকাশ/নগদ নম্বরে বা আমার ব্যাংক একাউন্টে আর্থিক সহযোগিতা/লোন প্রদান করতে অনুরোধ করছি।
আমার বিকাশ ও নগদ নম্বর: 01311-057678 (এবং এটি আমার WhatsApp নম্বর)।
আমার ব্যাংক একাউন্ট বিস্তারিত নিম্নে প্রদত্ত হলো:
Dr Md Ali Asgar
BRAC BANK A/C No. 5501104886692001
Routing No. 060811934
Rajshahi Branch.
উপরোক্ত তথ্য লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত:
ফেসবুক এর লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/share/p/186hTYk1Pu/