
ঈদ ইসলামে শুধু ব্যক্তিগত উৎসব নয় বরং একটি সামাজিক সম্প্রীতি, মানবতা ও ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার এক অনন্য সুযোগ। ইসলামে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার যে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে এটি একক ভোগের বিষয় নয়, বরং সমষ্টিগত কল্যাণের জন্য উৎসর্গিত একটি বিশেষ সময়। এই নিবন্ধে ঈদের ইতিহাস, স্মৃতি, বিদেশের ঈদ, সেই দিন-এই দিনের পার্থক্য, কেমন কাটলো ফিলিস্তিন গাজার মুসলমানদের ঈদ এবং আত্মীয় প্রতিবেশীর হক এবং সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করব।
ঈদ মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় উৎসব। ঈদের আগাম বার্তা নিয়ে উর্ধ্ব আকাশে যখন চাঁদ দেখা যায়, তখন এই চাঁদ মুসলমানদের ঘরে ঘরে কতটা খুশির বার্তা নিয়ে আসে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঈদ মানুষকে দ্বন্দ্ব, সংঘাতও হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার শিক্ষা দিয়ে থাকে। আরবি ঈদ শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘আউদ’। বাংলা অর্থ ‘বারবার ফিরে আসা’। ফিতর শব্দের অর্থ ‘ভেঙে দেওয়া’। ঈদ আসে মানুষের শত্রুতা ও বৈরিতার প্রাচীর ভেঙে মিত্রতার বন্ধন সুদৃঢ় করতে। ঈদ আসে মানুষের হৃদয়ে ও মনে পরিতৃপ্তির ছোঁয়া লাগাতে।
৬২৪ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর জীবদ্দশায় আরব জাহানে প্রথম ঈদ উদযাপনের রেওয়াজ চালু হয়। আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের বহুধা বিভক্ত আরব জাতিতে উৎসবের নামে অশ্লীলতা চলছিল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর সেসব অশ্লীলতা পরিত্যাগ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা নামে দুটি উৎসব পালন করার আদেশ দেন। সেই থেকে সমগ্র মুসলিম জাহানে এই ঈদ উদযাপনের রেওয়াজ চালু হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর থেকে প্রকাশিত একটি পোস্টকার্ডে দেখা যায়, সতেরো শতকের শুরুতে নায়েব নাজিমদের ঈদ উদযাপন, ঈদ মিছিলের দৃশ্য। সেখানে তৎকালীন ঢাকার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র চকবাজার, বড় কাটরার ফটক ও মীর জুমলার কামান, ‘বিবি মরিয়ম’ দৃশ্যমান এবং ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হেকিম হাবিবুর রহমানের ‘টাকা পাচাস বারাস পাহে’ গ্রন্থে তিনি বলেছেন, অতি সৌখিন লোকেরা নৌকার সাহায্যে পদ্মা নদীতে গিয়ে চাঁদ দেখতেন। কিশোর ও যুবক সবাই যেত। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে লোকেরা ও নিজেদের দৃষ্টি শক্তি পরীক্ষা করার জন্য অবশ্যই যেতেন অবশেষে চাঁদ দেখা গেল। বন্দুকের গুলি ছোড়া হলো। তোপধ্বনি করা হলো, এমন সরব হলো বধিরও জানতে পারল যে চাঁদ উঠেছে।
মোগল রীতির প্রভাবের একটি বড় উদাহরণ স্থাপত্য, যার সাক্ষী হয়ে আছে এই অঞ্চলের কয়েকটি শাহী ঈদগাহ। সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করতে যাওয়াই ঈদের সকালের প্রথম আনুষ্ঠানিকতা। মোগল ইতিহাসের বর্ণনায় দেখা যায়, ঢাকার প্রথম শাহী ঈদগাহ নির্মাণের সময় বহু আগের। বাংলা মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে আসার ৪৪ বছর অর্থাৎ ১৬৪০ সালে। সম্রাট শাহজাহানের ছেলে শাহ সুজার প্রধান আমত্য মীর কাশিম নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত পরবর্তী ধানমন্ডি শাহী ঈদগাহটি। এখানে এক সময় অনুষ্ঠিত ঈদের প্রধান জামাতে আসতেন সুবা বাংলার সুবাদার, নায়েবে নাজিম ও তাঁদের পরিষদেরা। সাধারণ মানুষ এই মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ পেয়েছেন অনেক পরে। তাছাড়া ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সিলেটের শাহী ঈদগাহটি মোগল আমলের। সপ্তদশ শতকের গোড়ার দিকে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে এই ঈদগাহ নির্মিত হয়েছিল। ওই সময় সিলেটের ফৌজদার ছিলেন ফরহাদ খাঁ। তাঁরই তত্ত্বাবধানে ঈদগাহ নির্মিত হয় বলে জানা যায়।
ঢাকা উর্দু রোডের বাসিন্দা, লেখক হুমায়রা হুমা প্রথম আলোকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সুপারি কাটার সরতা দিয়ে চিকন করে কেটে রাখা হতো খুরমা। তা ভিজিয়ে রাখা হতো দুধের মধ্যে। বাড়ির মা-খালা কাজটি আগের রাতে করে রাখতেন। পুরুষরা সেই খাবার মুখে দিয়ে ঈদের নামাজ পড়তে যেতেন। এই প্রচলন বহুকালের।’ কিন্তু ঈদ উৎসবের মোগল ঐতিহ্যের অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে কালের বিবর্তনে।
একসময় প্রযুক্তি যখন এতটা উন্নত ছিল না, ছিল না গণমাধ্যম, টেলিভিশন বা সংবাদপত্র তখন বিভিন্ন জায়গায় ঢোল পিটিয়ে ঈদের আগমন বার্তা ঘোষণা দেওয়া হতো। ফলে একই দিনে ঈদ উদযাপনে দেখা দিত বিপত্তি। এখন অবশ্য প্রযুক্তির সমৃদ্ধে প্রায় গোটা বিশ্বে একই দিনে ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে। ঈদ ধনী-গরীব সব মানুষের মনে আনন্দের দোলা দিয়ে যায়। ঈদের খুশিতে আত্মহারা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম একটি গান লিখে তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন, “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”। এই গানটি আজও প্রতিটি মানুষকে আলোকিত করে। কালের পরিক্রমায় বাঙালির জন্য এটি এখন ঈদের থিম সং হয়ে উঠেছে। ঈদ এলে রেডিও, টেলিভিশন কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে গানটি বেশ গুরুত্ব পেয়ে থাকে।
ঈদ এলে মনে পড়ে শৈশবের ঈদ উদযাপনের স্মৃতি। প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন চৌধুরী (ইসবা) বলেন, ছোটবেলা ২০ রোজার পর থেকে ঈদের কাপড় কিনে দেয়ার জন্য মা-বাবাকে ব্যস্ত করে তুলতাম। রমজানের শেষের দিন মাগরিবের নামাজের পর খোলা মাঠে চাঁদ উঠেছে কিনা দলবেঁধে দেখতাম এবং আগামীকাল ঈদ বলে চিৎকার দিয়ে সবাইকে আনন্দের বার্তা দিতাম। ঈদের দিন সকালে পুকুরে দল বেঁধে গোসল করে নতুন কাপড় পরিধান করে মিষ্টি খাবার (সন্দেশ) খেয়ে নামাজ পড়তে যেতাম। নামাজ শেষে সারাদিন বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি ঘুরে বেড়াতাম। ছোট বেলার সে ঈদ এখন খুব মিস করি। এখন ঈদ মানে আমার কাছে সকালবেলা নতুন পাঞ্জাবি পাজামা পড়ে খোলা মাঠে ঈদের নামাজ পড়া ও নামাজ শেষে সবার সঙ্গে ঈদের কোলাকুলি করে ঘরে ফিরে লম্বা একটা ঘুম দেওয়া।
সময়ের সঙ্গেঁ পাল্লা দিয়ে ঈদ উদযাপনে এখন এসেছে বৈচিত্র্যময় পরিবর্তন। এখন ঈদের আগের রাতে দেশ-বিদেশে সর্বত্র জমে উঠে চাঁদ রাত উৎসব। এই রাতে মহিলা ও শিশু-কিশোররা মেহেদী দিয়ে রঙিন করে তুলে তাদের হাত। বিভিন্ন জায়গায় বসে মেলা। এসব মেলায় থাকে খাবার ও পোষাক-পরিচ্ছদের স্টল। গভীর রাত অব্দি শিল্পীদের কন্ঠে পরিবেশিত হয় ঈদের গান। এসব অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষের সবার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ছোটবেলা দেখেছি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ ঈদের আনন্দ উপভোগ করতো সিনেমা হলে ছবি দেখে। ঈদে তখন নির্মাতারা তৈরি করত নতুন নতুন ছবি। তখনকার বাংলা ছবিগুলো রুচিশীল ছিল এবং ঈদের দিনে লোকজন দুপুর থেকেই দল বেধে ছুটে যেত সিনেমা হলের দিকে। গ্রাম অঞ্চলের শিশু কিশোর বা যুবকরা বিকেলে ফুটবল, কাবাডি খেলায় মেতে উঠতো। সেদিন নেই, নেই মাঠ, নেই ফুটবল, নেই সিনেমা হলের রমরমা ব্যবসা। সময়ের পরিবর্তে সব বিলীন হচ্ছে দিন দিন। এখন বড় লোকেরা ঈদের অনুষ্ঠান উদযাপন করে ফাইভ স্টার হোটেলে নাচ গান ও বিশাল ভুরিভোজের আয়োজনে অতিবাহিত করে ঈদের দিন। দেশে ঈদের দিনের আনন্দমুখর দিনগুলো এখন খুব অনুভব করি। কিন্তু প্রবাসের চিত্র ভিন্ন। প্রবাসে ঈদের দিনেও বেশিরভাগ মানুষকে কাজে যেতে হয়।
এছাড়া প্রবাসের ঈদের বাস্তবতা তুলে ধরেন নিউইয়র্কের হেলথ ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পারভিন হান্নান। তিনি বলেন, ঈদের আনন্দ ছোটবেলার মতো হয় না, কিংবা ছোটবেলার মত তেমন একটা গুরুত্ব বহন করে না ঠিকই। তারপরও একটা বয়সে সব কিছুর আলাদা গুরুত্ব বহন করে। আমি যখন আমেরিকা এলাম, তখন ইৎড়হী- এ ডিকেটরে থাকতাম। এখানে বাঙালি ছিল না তেমন একটা। বাঙালিপাড়া বলতে জ্যাকশন হাইটকে বুঝাত। নিউইয়র্কে কোন মসজিদ ছিল না। কেউ মৃত্যুবরণ করলে দাফন করা অত্যন্ত কষ্ট হত। বাঙালি হাতে গোনা ক’জন ছিলেন। তাছাড়া রোজা বা ঈদ কখন নির্দিষ্ট করে বলা যেত না। অনেকজন কাজ শেষ করে এসে জানতো আজ ঈদ ছিল। এই ছিল তখনকার বাস্তবতা।
যাক, আমি ঈদের দিন বাসার সামনে বসে থাকতাম একজন বাঙ্গালী দেখবো বলে, কিন্তু কখনোই দেখতে পেতাম না। তখন হাতেগোনা কয়েকটি দোকান ছিল। তাও বাঙালিরা তেমন একটা কেনাকাটা করতে পারত না, দাম বেশি হওয়ার কারণে। বেশিরভাগ বাঙালি দেশ থেকে কাপড় বানিয়ে আনত বা নিয়ে আসত। আর এখন এত বাঙালি, যাকে বলে মিনি বাংলাদেশ। এখন বাংলাদেশী কাপড়ের দোকানের সমারোহ। যারা প্রবাসী বাঙালি, ঈদে এখানে কেউ বাজার করেনি খুব কমই হবে। কি নেই এসব দোকানেÑ মেহেদী থেকে শুরু করে প্রসাধনী, জুয়েলারি, শাড়ি, ব্লাউজ, সেলোয়ার কামিজ, ছেলেদের বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবি, ব্যাগ, জুতা, শাল ইত্যাদি। এখন প্রতি এলাকায় এবং এভিনিউতে বাঙালির বাড়ি। সে সুবাদে এখন ঈদ এলে মনে হয় বাঙালি মুসলমানদের ঈদ এসেছে। বিদেশের ঈদ এখন অনেক বেশি ভোগবাদী উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রবাসের ঈদ এখন দেশের ইমেজ অনুভবে নয়, সম্পূর্ণ বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।
তবে ঈদ আসে, কিন্তু গাজায় আনন্দ আসে না। ঘোষণা আসবে ঈদুল ফিতর উদযাপনের, তখন ফিলিস্তিনিদের উৎসবে মেতে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ আর ধ্বংসের মধ্যে দাঁড়িয়ে গাজার মুসলমানদের ঈদের আয়োজন বাদ দিয়ে বেঁচে থাকার মধ্যেই আনন্দ খুঁজতে হচ্ছে। “অলৌকিক কিছু না ঘটলে হয়তো এই শহরে আর কোনদিন আনন্দ দেখা যাবে না”, হতাশ কণ্ঠে বললেন গাজার বাসিন্দা মোহাম্মদ আল সারকা। প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরাইলের হামলায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজা এখন ধ্বংসস্তূপের এক নগরী। মাঝে যুদ্ধবিরতি হলেও ১৮ মার্চ, ২০২৫ থেকে আবার চলছে হামলা। ইসরাইলের অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য সামগ্রীর দাম এতটাই বেড়েছে যে কিছু কেনার উপায় নেই সাধারণ মানুষের। গাজায় এখন বেদনা বিধুর এক পরিবেশ। এছাড়া যুদ্ধ কি, তা গাজার শিশুরা এতদিনে বুঝে গেছে। তারপরই ঈদের সময় কিছু না পাওয়ার বেদনা ভারি করে তাদের ছোট মন।
সাত বছরের হানিন কাঁদছিল অঝোরে। তার কারণ, ইসরাইলের হামলায় তাদের ঘরতো গেছেই, সঙ্গে তার জামা, পুতুলগুলো পুড়ে গেছে। এখন পড়ার মতো সুন্দর কোন জামা নেই। “আমি ঈদ পছন্দ করি না”, বলছিল হানিন। নতুন পোশাকের চেয়ে এখন পানির গ্যালন ভর্তি করাতেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। তাই শিশুদের জন্য খাবারের ন্যূনতম কিছু আয়োজনের মধ্য দিয়ে এভাবেই ঈদ সারতে চাইছে তারা। শুনেছি, আমাদের বাংলাদেশে ছোট ছোট স্কুলের শিশুরাও তাদের টিফিনের টাকা থেকে বাঁচিয়ে ওদের সাহায্যে দান করেছে। আহা, শিশুদের জন্য শিশুদের কি মায়া, কি উদারতা! এটাই বুঝি প্রকৃত ঈদ। তবে ঈদের দিন সকালে গাজার মুসলমানরা নামাজ পড়ে ভেবেছে, আমি আর কতদিন বাঁচবো? আমার পরিবারকে কি আমি আর কোনদিন দেখতে পাবো? ইতিহাস কি বদলে দেবে তার বিবরণ? সময় কি পাল্টে দেবে ফলাফল? কিন্তু ওদের ঈদ কাটছে ক্ষুধা, গুলি আর বোমাকে সাথি করে।
ঈদের মূল শিক্ষা: সংহতি ও সহমর্মিতা। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা দুটি উৎসব ব্যক্তিগত আনন্দকে সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে সংযুক্ত করে। তবে ঈদের প্রকৃত আনন্দ তখনই পরিপূর্ণ হয়, যখন তা সমাজের সকল স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাছাড়া সাদাকাতুল ফিতর ঈদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি মূলত সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর জন্য নির্ধারিত, যাতে তারা ঈদের দিনে অভুক্ত না থাকে এবং তারাও আনন্দ উপভোগ করতে পারে। ঈদে উপহার বিনিময় করা সুন্নত। এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। ঈদ শুধু নিজের পরিবারে সীমাবদ্ধ না রেখে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। ঈদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো, সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটানো। রাসূলুল্লাহ (সা:) সব সময় অভাবীদের পাশে দাঁড়াতেন এবং সাহাবীদেরও এই ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতেন। ঈদ শুধু ব্যক্তি বা পরিবার কেন্দ্রিক আনন্দ নয়; এটি এক বৃহৎ সামাজিক সম্প্রীতির মেলবন্ধন। ঈদের দিন আমরা যেন নিজেদের পাশাপাশি অন্যদের মুখেও হাসি ফোটাতে পারি, এটাই হোক আমাদের চাওয়া।
[লেখক: প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, নুরজাহান মেমোরিয়াল মহিলা ডিগ্রি কলেজ, সিলেট। লোকসংস্কৃতি গবেষক, রাষ্ট্রচিন্তক, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রাবন্ধিক। পিএইচডি ফেলো, নিউইয়র্ক]