1. info.thedailyworldreport@gmail.com : https://www.pencraftmagazine.com/ https://www.pencraftmagazine.com/ : https://www.pencraftmagazine.com/ https://www.pencraftmagazine.com/
  2. admin@www.pencraftmagazine.com : Pen Craft Magazine :
May 15, 2026, 12:37 pm

“মেঘ ঝরা বৃষ্টি” মনমোহন সৃষ্টি 🌧️ মোঃ সাদিকুর রহমান রুমেন

Md. Sadiqur Rahman Rumen
  • Update Time : Thursday, May 14, 2026,
  • 49 Time View
মেঘ ঝরা বৃষ্টি

১.

“মেঘ ঝরা বৃষ্টি” কাব্যগ্রন্থ, লেখক: মোঃ ইউছুফ মিয়া নুনু, জন্মেছেন বাংলায় থাকেন বিলেতে। পিতা: পীর মোহাম্মদ ইস্কন্দর মিয়া (মরহুম) প্রবাদপ্রতিম মরমী গীতিকবি, মাতা ফুলমালা তালুকদার। জননী ও জনক দেশ ছেড়ে বিদেশে হিজরত করায়, আজ তিনিও অন্যান্য সহোদর ভাইদের সাথে বিলেত প্রবাসী। পিতা কবি, সম্ভবত তাই পুত্রের শিরা উপশিরা ও প্রতিটি রক্তকণিকায় সৃজন বেদনা প্রবাহিত। বর্ণিত কাব্যগ্রন্থ লেখক তাঁর অন্যান্য বইয়ের সাথে স্বহস্তে আমাকে দিয়েছেন (সম্প্রতি তিনি স্বদেশে আছেন) বইটির মলাট খুলে দেখলাম বইটি তিনি তাঁর শ্রদ্ধেয় বড় ভাই জনাব মোহাম্মদ চন্দন মিয়া সহ অনুজ, মোহাম্মদ সুলতান মিয়া ও মোহাম্মদ আকবর মিয়াকে উৎসর্গ করেছেন।

কবি: মোহাম্মদ ইউছুফ মিয়া নুনু

অতঃপর কবিতার সূচীপত্র পড়লাম: কথায় আছে “ঘ্রাণেই অর্ধেক ভোজন” সূচীপত্রে কবিতার নামগুলো আমাকে আকর্ষণ করলো। পড়তে শুরু করলাম, প্রথম কবিতা “স্বাধীনতা ডানা ভাঙা পাখি” প্রথম স্তবকের তৃতীয় লাইনে আমার চোখ আটকে গেল, “কলকল রুপোলি ফিতার মতো নদীগুলো” কবিতার শরীর গঠন হয় বর্ণ বা অক্ষর দিয়ে, কিন্তু কবিতার আত্মা গঠন করতে গেলে কবিকে আকাশকুসুম কল্পনা করতে হয়, কবিতার প্রাণভোমরা চিত্রকল্প, রূপক শব্দালংকার এগুলো আকাশকুসুম কল্পনার অধিকারী না হলে করায়ত্ত করা সম্ভব নয়।

নদী তো নদীই হেমন্তে শান্ত বর্ষায় খরস্রোতা, উন্মত্ত চঞ্চল, চোখবুঁজে সাধারণত আমরা যে কেউ, নদীর চিরায়ত স্বভাব এমনটাই ভাবতে পারি! কিন্তু কবি যখন কবিতায় নদীকে রুপোলি ফিতা বানিয়ে ফেলেন, তখন সে অনির্বচনীয় দৃষ্টান্তে আমরা টাস্কি খাই। আমরা নদীর এক মনমোহন রূপ অবলোকন করি, এই অনির্বচনীয় রূপ বচনে বর্ণনা করতে গেলে দৃশ্যকল্প এমনতরো: হয়তো চাঁদের আলো সূর্যের কিরণে নদীর শান্ত জল ঝিকমিক করছে, দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে নদী এক লম্বা রুপোলি ফিতার মতো বয়ে চলেছে। এ দৃশ্য যেকোন ফটোগ্রাফার ক্যামেরায় ধারণ করতে পারেন, কিন্তু দৃশ্যের ফটো ক্যাপশনে রুপোলি ফিতার কথা, একমাত্র জাত কবি ছাড়া কেউ লিখতে পারবে না। এমনকি ফটোগ্রাফার ও নয়। সুতরাং প্রথম কবিতা পড়েই আমি মোহিত বিমোহিত, কবি মোহাম্মদ ইউছুফ মিয়া নুনু ভাইকে কি বলবো? সাধু! সাধু! সাধুবাদ!!!

 

২.

সৌজন্য সম্ভাষণ তো শেষ হলো, সম্মানিত সুধী পাঠক! আসুন এই কবিতার বই পাঠ পরিক্রমায় আপনারাও আমার সাথে থাকুন। এবার আমরা পরবর্তী কবিতাগুলো পড়বো, আর যেখানে কবি কবিতার গায়ে গতরে, সোনা-রুপা মণিমাণিক্যের নুড়ি পাথরে শব্দালংকার জায়গামতো বসিয়ে দিয়েছেন! তা একটু ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখবো। আমরা এখন সূচীপত্র ধরে কবিতা পড়বো না, আমরা পড়বো আমাদের অভিরুচি মতো, পথিক পথ চলতে যেমন সর্বদা সামনে, কখনো ডানে বায়ে কদাচিৎ পেছনেও থাকায়, আমরা এক্ষেত্রে তাই করবো।

বইয়ের তৃতীয় কবিতা “চিঠি” চিঠি তো পড়তেই হবে! পত্রপাঠ ছাড়া পত্রোত্তর দেওয়া সম্ভব নয়, সুতরাং চিঠি কবিতা আমরা কয়েক লাইন পড়ি: জানিনা কেমন আছো প্রিয়/ আশা রাখি ভালো আছো?/ গ্রীষ্মের মধুর এই দিনে/ আমি আছি মোটামুটি/ তবে মন পড়ে থাকে গ্রামে/ দূরে রেখে তোমাকে কাটে না প্রহর দিবস রজনী/

 

চিঠি কবিতার দ্বিতীয় ও শেষ স্তবকে প্রিয়াকে লেখা প্রেমিক কবির আরো অনেক আর্তি আকুতির পর, চিঠির ইতি হয়েছে। আমরা আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার পথ পরিহার করতে প্রথমার্ধে ই থামলাম। চিঠি আজকাল আর কেউ তেমন লেখেনা, এখন তরিৎ যোগাযোগের কাল, কথা, হাওয়ায় ভাসে আর মিলিয়ে যায়। কিন্তু চিঠির কথা স্থায়ী, প্রিয়জনের লেখা চিঠি, পড়ে বইয়ের ভাঁজে বাক্সে আলমারিতে যত্নে রাখতেন আগেকার মানুষ। যুগ থেকে যুগান্তরে চিঠি হয়ে যেত সময়ের সাক্ষী, কালের ইতিহাস।

কবি মহাদেব সাহা লিখেছিলেন: করুণা করে হলেও চিঠি দিও/ খামে ভরে তুলে দিও আঙুলের মিহিন সেলাই/

মুঠোফোন পেয়ে কেউ এখন আর চিঠির জন্য করুণ করুণা ভিক্ষা করে না। তথাপি চিঠির আবেগ ধারণ করতে পারেনা কোন বেতার মাধ্যমই। তাই আমাদের আলোচ্য কবিতাগ্রন্থে কবি আমাদের কে টেকনোলজির ধোঁকা সম্পর্কে নিম্নোক্ত হুঁশিয়ারি দেন:

 

“টেকনোলজিক ধোঁকা”

তরুণ-তরুণী মন ভালোবাসার অন্বেষণ পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়েছে আলোড়ন। কথা কয় টাইপ করে মন দেয় প্রেম করে সারাক্ষণ। আহা টেকনোলজিক প্রেম সবখানে রাধাশ্যাম প্রেম হওয়া ব্যাপার নয়, হতে পারে যেমন-তেমন। প্রেমগুলো ব্লাক এন্ড হোয়াইট অর্থাৎ লেখালেখি সাইড টু সাইড। অধুনার অধুনা স্টাইল দেখে পড়ে প্রোফাইল প্রেম যাচে; বন্ধু হয়ে কাছে ডাকে আজকাল। প্রতারণায় পড়ে কত সেরে ওঠে সময় মতো, কতই যে হয় আহত না জানিয়া পড়ে ধোঁকায়, অসাবধানতায় হেন হাল প্রেম হয় মহাকাল বোঝতায়।

৩.

এবার আমরা প্রকৃতির প্রতি কবির কিছু মুগ্ধ উচ্চারণ পড়ি, “জৈষ্ঠ্যের আদৃতা” নামক কবিতায়: গ্রীষ্মের শেষ এই মধুমাস ফলপাকুড় নির্যাস…../… নীল মাছি ভ্রমে দোলে ভম-ভম সুরে ফলে ফলে/

আরেকটু এগিয়ে জৈষ্ঠ্যাচার কবিতায় কবি মধুমাস জ্যৈষ্ঠের এক মনোজ্ঞ চরিতামৃত বর্ণনা করেছেন যা, নিম্নোক্ত:

“জ্যৈষ্ঠচার”

আহ! বাতাসে মিশে আসছে এত এত গন্ধ ওহ! এ-তো আম জাম কাঁঠালের সুঘ্রাণ হ্যা! গ্রীষ্মের মধুমাস এসেছে জ্যৈষ্ঠ। তাই তো, বকুলের ফুলগুলো ফুটে ডালে হাসছে জারুল থোকা থোকা হলুদে, দোেলছে বাতাসে। ওই-তো, পুঞ্জপুঞ্জ মেঘ ভেসে বেড়ায় দোল দোল শিশু-কিশোর জলে নায় ঝাঁপ দিয়ে আনন্দে।

ওই দেখি আম কুড়ায় শিশু দল খোলা পায় বৃষ্টির জলে ভেজে কিশোরেরা সবুজের মাঠে হাল ছেড়ে জলে ডুবে চাষা-কৃষান মুগ্ধ এই মেঘ এই ছায়া এলো বুঝি তাপদগ্ধ জ্যৈষ্ঠ।

এছাড়া সমগ্র কবিতার বইয়ে প্রকৃতি বন্দনার অসংখ্য কবিতা যেমন আছে প্রকৃতির বৈরিতা দেখে কবির অনেক বিমর্ষ ও ব্যতিত উচ্চারণ ও আছে।

৪.

“নারীরা আসছে এগিয়ে” কবিতায় আমরা নারী জাগরণে আশ্বস্ত কবির অনেক উৎফুল্ল অমোঘ উচ্চারণ শুনতে পাই।

“আধিপত্যে অন্ধ” কবিতায় কবি সকল যুগের সকল রাজনীতির স্বেচ্ছাচারী চরিত্রের বন্ধ দরোজায় করাঘাত করেছেন জোরালো সব প্রতিবাদী শব্দের ব্রহ্মাস্ত্র দিয়ে।

“যে আলোতে দেখব তোমায়” কবিতায় কবি তাঁর বাঞ্চিতজনকে, চন্দ্র সূর্য গ্রহ নক্ষত্র মোম লণ্ঠন বৈদ্যুতিক, কোন আলো ছাড়াই প্রণয়ের হৃদয় উৎসারিত আলোয় দেখতে চেয়েছেন। আবার মায়ার বাঁধন কবিতায় কবি প্রণয়িনীর চলে যাওয়ার প্রস্তাবনাকে নানান মান অভিমান আর গুচ্ছ গুচ্ছ প্রেমময় শব্দবাণে বিদ্ধ করে তাঁকে বিচ্ছেদ বেদনার নিঠুর পন্থা অবলম্বন থেকে বিরত করতে চেয়েছেন। এতে মানবীয় প্রেম বিচ্ছেদ বিরহের এক সার্বজনীন রূপরেখা চিত্রিত হয়েছে তাঁর কলমে। বিরহ বিলাসের পাশাপাশি মিলনের সানাই বাজিয়েছেন কবি, দেখুন তাঁর দৃষ্টান্তমুলক কবিতা:

লাজবতী

জোছনার রাত বৃষ্টি ঝরছে টপ টপ স্নানঘাট হয়ে ঘরে ফিরছে ওরা দুজন, মধু পূর্ণিমা রাতের ‘নব যুগল দম্পতি লাজ ভরা দুটো আঁখি এদিক-ওদিক না চেয়ে আপন সুখালয়ে আসছে তাড়া করি, কাঁপছে থর থর লাজ ভয়ে ডরে ডরে ধায়ে ফিরছে ঘরপ্রতি।

চাদর মোড়া খোলা গায় পরনে ওর ঘাগরি, বেণি বাঁধা কালো কেশ ছিল ভেজা, পায়ে নূপুর সেধা, ঝনঝন তাল বাজে দ্রুতপদে ঘরে ফিরে দুজনে, ‘বর’ সাধে মিলনে।

বধূ বলে, এখন আবার?

ছি! ছি! কী করছো?

আহ! মোরে ছুঁইয়ো না!

বাহুপরে ধরো না শোন! থামো প্লিজ, জানবে লোকে কেউ আহ!

তাতে কী যে লাজ।

উপরোক্ত পদাবলীতে, আমরা দেখতে পাই, নব দম্পতির নব যৌবনের লাজ নম্র অথচ চঞ্চল যৌবনের অবাধ উন্মত্ততা। বাসর রাতের মধু মিলন শেষে বৃষ্টিস্নাত অথবা কনকনে মাঘের শীতে, লোকচক্ষুর অন্তরালে গভীর রাতে এই মাত্র তাঁরা পুকুর অথবা নদীর নির্জন ঘাটে যুগল সুচিস্নান সেরে ঘরে ফিরে এসেছে, অথচ আবারও মিলনেচ্ছা জাগ্রত হয়েছে নওজোয়ানের, নববধূকে সে কাছে টানছে, নবপরিণীতা কপট আপত্তি করছে, কিন্তু মনে মনে সেও চাইছে, হোক আবার হোক এই সুখের নিশি যেন প্রভাত বিলম্বিত দীর্ঘ হয়। পরস্পর বারবার সুচিভঙ্গ করবে বারংবার সুচিস্নাত হবে, দুজন দুজনের উত্তাপে তপ্ত তৃপ্তির লোভে, তাঁরা ভুলে যায় গভীর রাতে ঠাণ্ডা জলে নেমে সুচিস্নাত হবার থরথর কাঁপুনির কথা। শেষমেষ রাত প্রভাত হয় তাঁরা দূরাগত পরবর্তী রজনীর অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু দিনের কোন নির্জন মুহূর্তের সদ্ব্যবহার করতে ছাড়ে না। এই হলো নবদম্পতির চিত্রকল্প, এটি চিরায়ত প্রেমের গল্প। সুতরাং “লাজবতী” কবিতাটি বিবাহিত মানবমানবীর চিরন্তন প্রেমের গোপন ইস্তেহার, এটি অমর অক্ষয় থাকবে, যতদিন পৃথিবীতে নব বিবাহিত যুগল দম্পতির মধু যামিনী থাকবে।

এরপর আমরা দেখি আরেকটি কবিতা:

বলো কবুল

এসেছি আজ শর্ত মতে। জল ছোঁয়াবে? কী দিয়ে আজ তাড়িয়ে দেবে, পিপাসার্ত। জল ঢেলে নাও! আর চলবে না ফান্দাবাজি দিন মাস বছর কতেক, কতই করেছো খামখেয়ালি, আজ কিন্তু যাবো না ফিরে, ফিরাও যদি মোরে। মান্নত তোমার যত ছিল কাজির মোকাম পরে, শিরনি চেয়েছো মহল্লা জুড়ে, দিয়ে এসেছি, দিয়েছি হলফ নিয়েছে, যতছিল শর্ত, পুরায়েছি এখন দাও ভালোবাসার মূল, বলো কবুল।

 

উদ্বৃত কবিতায় কবি বড়ো নাছোড়বান্দা, প্রেমিকার সব শর্ত পূরণ করে তিনি তাঁকে নিকাহ করতে চান, তিনি নিজেই ঘটক, কাজি, এবং বর, এবার কন্যে রাজি না হয়ে আর উপায় নেই।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হয়েছিল, তা আমরা জানিনা, ঘটনার পরিণতি সম্পর্কে জানতে আমরা যদি কবি পত্নীর শরনাপন্ন হই, আর এ ঘটনার নায়িকা যদি তিনি না হয়ে অন্য কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে কবি পড়বেন মহা বিপদে। কৈফিয়ত তলব করবেন কবি পত্নী!

সুতরাং এই আলোচনা সুত্রে কবিকে আমরা ব্যক্তিগত ঝুটঝামেলায় ফেলতে চাইনা

কবিতার ঘটনার ঘনঘটা কবির ব্যক্তিগত না হয়ে নিছক কল্পনা হওয়াই স্বাভাবিক, সুতরাং আমরা সে চিন্তা পরিহার করি, বরং দেখি রবীন্দ্রনাথ কবি ও কবিতা সম্পর্কে কী বলেছেন: কবি যেমন কাব্য যেন তেমন নাহি হয় গো/ 

এর মানে কবিতা যেন কবির ব্যক্তিগত জীবনের অবিকল নকল না হয়ে সমাজ ও সামষ্টিক জীবনের কথা বলে, এবং পাঠকেরও দায়িত্ব আছে, কবিতা আর কবিকে গুলিয়ে ফেলা চলবেনা, সব কবিতাই কবির ব্যক্তিগত জীবনের স্মারকলিপি, তা ভাবা উচিত নয়। আবার কবিতা  একেবারেই কবির জীবন লগ্ন নয় তাও ভাবা যাবে না, মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই উত্তম।

 

আলো স্নান কবিতা আমাদের কে অন্য এক অপার্থিব আলোর সন্ধান দেয়, কী সেই আলো? সরাসরি আমরা কবিতার পাঠ থেকেই জেনে নিই: 

“আলো স্নান”

আমি স্নান করি আলোতে

এ কোনও লাইট বাল্বের আলো নয় কোনও প্রদীপের আলো নয়, জ্যোৎস্না রাতের চাঁদের আলো নয় কিংবা বৈশাখি ঝড়ে আকাশে মেঘঘর্ষণের বিদ্যুতের আলো নয়, আমার স্নানের আলো এ সব থেকে ভিন্ন। এ আলো পূর্ণিমার রাতের পূর্ণ চাঁদেরও নয় প্রাতে উদয় সূর্যের অরুণ কিরণের আলো নয় এ আলো আমার একান্ত, নিজ প্রেমের প্রেমিকার আলো!

এ আলো আমার জীবন রঙিন করার, সে আলো!

এ আলো আমার প্রিয়তমার রঙিন চোখের আলো যে চোখ দিয়ে আমাকে দেখে, তৃপ্ত হয় আর তৃপ্ত করে।

এ আলো আমার প্রেমিকার চাঁদের মতো গোল মুখের হাসির আলো! যে আলো মেঘের বিদ্যুতের মতো তার বিম্বাধর দিয়ে বেরিয়ে এসে

আমার হৃদয়ে পশে! এ আলো সেই আলো-

আমাকে দেখে পূর্ণিমার চাঁদের মতো যে আলো ফোটে প্রিয়ার মুখমণ্ডলে।

এ আলো সেই আলো, আঁধার শেষে প্রাতের কিরণের মতো ভেসে ওঠা আমার জীবনে!

এই আলো আমার এবং আমার প্রিয়তমার প্রথম মিলনের-

মধুচন্দ্রিমা বাসর রাতের আসরের আলো, যে আলোতে স্নান করে ধন্য হয়েছি মোরা!

এ আলোতেই হচ্ছে হবে আমাদের আমরণ প্রেমের স্নান।

 

৫.

“মেঘ ঝরা বৃষ্টির” কবিতা ভুবনে ভ্রমণ করতে গিয়ে আমাদের দৃষ্টি গোচর হয় “নিস্তরণ” শিরোনামা একটি কবিতার প্রথম চরণে, কবি লিখেন: বদলাতে কি চাও, বদলে হও বৃহৎ স্বচ্ছে/ অতঃপর কবিতা গর্ভে কবি সকল প্রকার সাধু সদুপদেশ দিতে থাকেন পাঠককে। প্রকৃতপক্ষে আমরা জানি বদলের অন্য নামই জীবন, যত পাপ পঙ্কিলতা আছে, দুষ্টতা কপটতা ছলচাতুরি আছে, তাঁর থেকে মুক্ত হয়ে সাধু স্বচ্ছ রূপে জীবনকে বদলে নিয়ে মনুষ্যোচিত জীবন যাপনের পরামর্শ দেওয়াই এখানে কবির উদ্দেশ্য।

 

কবি রাজনীতি সচেতন, কিন্তু অপরাজনীতি তাঁর না পছন্দ তাই তিনি লিখেন:

“হরতাল নামের বধির”

গাড়ি-বাড়ি পুড়ে যে ছাই গরু-বাছুর আরও কত বৃক্ষের কি নাই জীবাধিকার, যদি মানবাধিকার সত্য। স্কুলযাত্রীর মাথা ফেটে রক্ত ঝরে ইট পাটকেল আঘাতে, শিশু অধিকার নেই কি লেখাপড়া, হাসা খেলার তরেও! ক্ষুধা কাতর রিকশা ড্রাইভার সিএনজি চালক দিনমজুর ভিখারিদেরও ভিখ জোটে না, যদিও ঘরে নেই অন্ন। হীন বিবেকের অধিকারে আন্দোলনের এই বদান্য।

 

পেট ভুখা জনগণ ডুকরে, পাষাণীরা পায় অধিকার কর্মসূচি দেয় লাগাতার হানে বিষাদ জনজীবনে স্বার্থের কলে গণঅধিকার কাইড়া ওই নেতানেত্রী আধিপত্যের লড়াই তরে জ্বালায় আগুন দেশ জুড়ি দুর্নীতির চক্রব্যূহে! শক্তিজোরে বিক্ষুভ মিছিল জনতাকে পিশে দলে হরতাল নামের মহা বধির

 

“ধরনী কাঁপে ত্রাসে” কবিতায় বিধ্বস্ত বঞ্চিত মানবতার প্রতি কবির জ্বালাময়ী সম্ভাষণ:

ধরণি কাঁপে ত্রাসে

বিধ্বস্ত বিবস্ত্র বঞ্চিত লাঞ্ছিত হে অপমানিত ভাঙাও সুপ্তি লভিতে স্বস্তি নির্ভয়ে জাগো মানবের প্রেমসারে ধরাতলে জোয়ারে উচ্ছ্বাসে উদ্ভাসো আপনারে বিকাশো লগ্নে বিশুদ্ধ হই এসো নিজেকে বাঁচাই নিজ প্রয়োজনে।

রুদ্ধ-আবদ্ধ, স্তব্ধ-নিঃশব্দ, দুর্বার-দুর্দান্ত সংসৃত হয়ে সবলে চলো ঢলে নির্বিকার থমথম স্রোতে ভেসে আত্ম রাঙিয়ে যশে জাগো জাগো অলসে নিজেরে বিন্যাসে রণে।

বিশুদ্ধ হই এসো নিজেকে বাঁচাই নিজ প্রয়োজনে।

ব্যথিত নির্যাতিত ক্লান্ত দলন্ত পিষ্ট অতিষ্ঠ নিঃস্ব হাল মেজে ওঠ তেজে বিপর্যয়ে সবেগে জীবন্ত দলো-মলে ভ্রান্ত যত সব ক্রান্ত অমানবিক বদলো বদলাও অকার্য সুষ্ঠু মানবতা সাধনে। বিশুদ্ধ হই এসো নিজেকে বাঁচাই নিজ প্রয়োজনে।

পীড়িত ঝলসিত বিধ্বংস ক্ষুব্ধ অবহেলিত নিপীড়িত ফুঁসে আয় ধেয়ে ধায় কল্যাণ বর্ষিতায় অবিরত মুছে কলগ্লানি মানবতায় রণি ওঠ যশ যশে ধরণি কাঁপে ত্রাসে, আঁধার ভাসে মুক্তি দে এনে। বিশুদ্ধ হই এসো নিজেকে বাঁচাই নিজ প্রয়োজনে।

 

৬.

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় কবি মাত্র তিন বছরের শিশু, পরবর্তীতে বড় হয়ে বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে ইতিহাস শুনেছেন, এই শ্রবণ তাঁর মননে গেঁথে গেছে সৃজিত হয়েছে দীর্ঘ কবিতা:

মাননীয় স্বাধীনতা

আমি তখন ছোট্ট-

তুমি যখন চেতনায় আপ্লুত তরঙ্গে যৌবনা হে আমার মাননীয় স্বাধীনতা তোমার চঞ্চল আশাতলে রসিকদের মনলুটে নির্ভীক আশিকেরা অভয়ে অস্ত্র ধরে হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা। হে আমার মাননীয় স্বাধীনতা।

আমি যদিও ছোট-কিন্তু দেখেছি, অনুভব করেছি আমি শুনেছি-তোমাকে জয়ীতে বাংলার মানুষেরা আকুলিত ছিল অকুণ্ঠ চিত্তে নির্বিঘ্নে বাঙালি লড়েছে লড়েছে খেতের কৃষান, লড়েছে শিল্পশ্রমিক লড়েছে, স্বাধিকার প্রেমিক সর্বস্তরের জনতা হে আমার মাননীয় স্বাধীনতা।

আমি ছিলাম শিশু এসে পিছু জেনেছি লক্ষ লক্ষ প্রাণ তোমা-তরে দান বৃদ্ধ-জোয়ান, আবালবনিতা বাংলা মায়ের সন্তান লড়েছে জয়ীতে, প্রাণ দিয়ে নিভৃতে হয়েছে শহিদ বাংলার নারী-পুরুষেরা অনেক জীবিত লয়ে পঙ্গুত্ত, নারীরা হয়েছেন বিরাঙ্গনা-বিরাঙ্গনা ‘সম্মানিত বিরাঙ্গনা’!

হে আমার স্বাধীনতা! আমি যদিও মায়ের কোলে তবু তো আমি ছিলাম-আমি বা আমাদের তরে নয়টি মাস যুদ্ধ করে দুর্বৃত্ত, দানব, হিংসুক, উন্মাদেরে দিলো যাঁরা তাড়িয়ে-বিজয়ে স্বাধিকার আমাদের দিয়েছে দান অধিকার আপ্লুত অমৃতস্ফীত অভিসার, আমরা ঋণী তাঁদের কাছে চিরদিনই।

যাঁরা বাংলাদেশ বিজয়ীতা তাঁদেরই এ বদান্যতা আমার লেখা এ ভাবছন্দ এই কবিতা। হে আমার স্বাধীনতা। এই নাম ‘বাংলাদেশ’ সেই সাত কোটি মানুষের যাঁরা হয়েছিল শরণার্থী ভারতের কিংবা ভয় প্রাণে লুকিয়েছিল গর্তে, জঙ্গলে, ঘরের ছাদে বাংলার কাশবনে, ধান ক্ষেতে যাঁরা পড়েছিল হায়েনার ফাঁদে-অথবা যাঁরা লড়েছে, যাঁরা অস্ত্র ধরেছে, এই বাংলাদেশ তাঁদের যে প্রাণগুলো ঝরেছে, সেই শহিদদের, আমাদের দেওয়া হয়েছে দান এই নাম ‘বাংলাদেশ’ কষ্টে, প্রাণের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনা স্বাধীকার পূর্ণতা-

হে আমার মাননীয় স্বাধীনতা!

আমাদের গৌরবের মহান মুক্তিযুদ্ধ, সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনা মা ভগ্নি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শ্রেণী পেশার মহান মুক্তিযোদ্ধা এবং মহান স্বাধীনতার প্রতি কবির বিনম্র মান্যতা প্রকাশের যে স্বতঃস্ফূর্তভাব, মনোজ্ঞ ভাষা ভঙ্গি তা আমাদের বিস্ময় বিমুগ্ধ করে।

 

কবিরা বরাবরই শান্তিকামী, কবি মোহাম্মদ ইউছুফ মিয়া নুনু ও তাঁর ব্যতিক্রম নয়, তিনি অসাম্প্রদায়িক প্রকৃত গণতন্ত্রকামী, সাম্যবাদী তাই তিনি সাম্য শান্তি ও মৈত্রীর পক্ষে লিখেন:

যুদ্ধ থামো

যুদ্ধ থামো, শুদ্ধ মনে প্রেম নমো-স্বদেশ প্রেমে মুগ্ধ হও যুবা তরুণ আর অকালে ঝরায় না যেন নব ফাগুন। আগ্নেয়াস্ত্রের দ্বন্দ্ব  করুণ বন্ধ হোক এ দেশে এগিয়ে যেতে হাল ধরো আজ ভালোবেসে।

স্বদেশ জুড়ে জৈবফুলে বাগান গড় গন্ধে ভাসুক দেশ মোদের বসন্ত ভারে সৌরভ তার ভেসে ভাসুক বিশ্ব জয়ে। সব আলয় মধুর সুবাস বহুক নির্যাস রেঙে উঠুক মধু রাগে ধ্রুপদী আকাশ।

৭.

কবি অসাম্প্রদায়িক সর্ব ধর্মের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাও সহনশীলতা আছে, তথাপি তিনি মুসলিম, লেবাসধারী নামমাত্র কোন মুসলিম নয়, 

প্রকৃত মুসলিম কে তাঁর আদর্শ ও জীবনাচরণ দিয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে মুসলমানীর, কবির লেখা নিম্নোদ্ধৃত কবিতাটি তাঁর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ: 

“মুসলিম”

আমি মুসলিম 

চলন্ত জীবনে সদা শান্ত। আমি মোমিন সত্যে আমি মিথ্যারে জানি ভ্রান্ত। মুত্তাকি আমি তাকওয়ার পথ ধরি পরহেজগার মুসল্লি আমি অন্যায় হতে মুক্ত । আমি মুসলিম-চলন্ত জীবনে সদা শান্ত।

কোরান সুন্নায় বিশ্বাসী-আমি ইমানদার। নবি আদর্শে জীবন গড়ি আমি দিনদার। আমি মুক্ত সব বক্রতায়, বিদ্বেষ প্রথায় হিংস্রতায় অলিপ্ত। আমি সচেতন মানব চির অধীর অত্যন্ত। আমি মুসলিম-চলন্ত জীবনে সদা শান্ত।

আমি খোদাভীরু-মানব আলয়ে করুণা লয়ে ফিরে-ফেরো।

আমি সংঘাতহীন-মর্ত্যালয়ে মানুষের কল্যাণে সজীব তরু। আমি অবাদে মানব সুবাদে কহল নিবারো আমি নবীর আনীত বিশ্ব নন্দিত শিষ্ট প্রদান্ত।

আমি মুসলিম-চলন্ত জীবনে সদা শান্ত।

আমি সাম্যের মিত্র-দুষ্ঠে বিচিত্র, আমি জাগ্রত ভয়হীন। শীর্ণে আমি অবিরাম ক্ষীণ-ভয়ভীতি হীন চির অক্লান্ত। আমি অভিন্ন, নহি জীর্ণ, অন্যায়ে দুরন্ত। আমি বিশ্ব মানবে অকুন্ঠাদর্শে ব্যাপ্ত।

আমি মুসলিম-চলন্ত জীবনে সদা শান্ত।

আমি বান্ধব মানবতার, সরল পথগামী, আমি সত্যের নিদর্শক।

ভীষণ দানবী বক্রতার।

নহি আমি সংহারক আমি সংস্কারক-বিশ্ব মানব মুক্তির প্রেরণাদায়ক, আমি ধার্মিক, নহি ধর্মান্ধ ভ্রান্ত।

আমি মুসলিম -চলন্ত জীবনে সদা শান্ত।

 

ইসলামিক সৌজন্য শিষ্টাচার সম্পর্কে কবির কবিতাও আমাদের গভীর মনোযোগের দাবি রাখে, কবিতাটি নিম্নে উদ্ধৃত হলো:

“সালাম ইসলামিক শিষ্টাচার”

আচ্ছালামু আলাইকুম শান্তির তরে দোয়া। এ কালামে হকদার শুধু মুসলমান একত্ববাদ আর রেসালতে যার ইমান ঐশী বাণী, আদম সৃষ্টিলগ্ন ধরিয়া।

স্রষ্টা-দীক্ষা দিত্সার ভিক্ষা শিষ্টাচার রক্ষা এক অন্যের তরে এ মহা-শিক্ষা ধ্বংসে হিংসা অন্তরে। উদারতার মাল্য হৃদয়ের মূলে আত্মাবল সঞ্চালক বাণী ইসলামে।

সালাম বাণীর বদলে জবাবে দ্বিগুণ ওয়ালাইকুম আচ্ছালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ পেয়ে এক, দেওয়া দুই বলেন পয়গাম্বর। বদান্যতার হেন নীতি প্রীতির তরে প্রীতি মুসলমানের এসব কৃতি ইসলামের ভেতর।

শিষ্টাচার পূর্ণধর্ম সর্বাধিকে মধুমর্ম এ দ্বীনে বিদ্বেষী মনোভাব ধর্মে নাহি স্থানে মুসলিম অমুসলিম সমবাস মিলে সুন্নাহ কোরানে। সালাম হেন ঐশী বাণী ইমান বিহনে পুণ্যতার রক্ষা হয় না অমুসলমানে।

ভিন্নধর্মী মানব যারা ভবে, বুঝিবা ধর্মীয় স্পেশালতা সর্বধর্মে শোভা মুসলমানের সালাম কালাম এমনি মানিবা। হৃদয়ের স্পদনে বাণী প্রকাশিতে হয় স্রষ্টার একত্ববাদ সমে সালামের গুরুত্ব রয়।

৮.

বইয়ের অন্তিমে এসে আমরা দেখতে পাই কমল পদ্য শিরোনামে কিছু অনুকবিতা, আপ্তবাক্য সদৃশ গভীর মর্মভেদী কথামালা: উদাহরণ স্বরূপ: 

কমল পদ্য -৭

মা বলিত খোকারে মোর কখন হবি বড়

বলতাম হেসে মাগো এইতো বয়স সতেরো।

বলতো মা বুঝবি নারে ওরে আমার ধন 

বয়স বাড়লে বড় নয় বাঁচাল থাকলে মন।

 

উদ্ধৃত কবিতার মতো এই রকম ১৯টি কবিতা রয়েছে পৃষ্ঠা ১৪২ থেকে ১৪৪ পৃষ্ঠাব্যাপী।

১৯ টি কমল পদ্য বাদ দিয়ে, বইয়ের নবম পৃষ্ঠা থেকে শুরু করে ১৪১ পৃষ্ঠা অবধি মোট ১৩২ টি কবিতা রয়েছে, সব কবিতার ভাব বিশ্লেষণ বা আলোচনা করতে গেলে বৃহদায়তন একটি স্বতন্ত্র বই হয়ে যাবে, সংক্ষিপ্ত আলোচনার পরিসরে তা অসম্ভব। সুতরাং আমরা পাঠকের সামনে কবিতার বিচিত্র নামকরণ, এবং বইটির কবিতা সূচী পাঠকের জন্য এখানে তুলে দিলাম:

কবিতাক্রম

স্বাধীনতা, ডানা ভাঙা গাথি ৯। সন্ধ্যার আবেশ ১০। চিঠি ১১। বউ কথা কও ১২। অভিলাষ ১৫। পথ চলা জীবনে ১৪। কবিতার ব্যথ্য ১৫। রসাবেশা জলপরি ১৬। জৈষ্ঠের আদৃতা ১৭। নারীরা আসছে এগিয়ে ১৮। অর্চনা ১৯। আধিপত্যে অন্ধ ২০। জ্যৈষ্ঠচার ২২। যে আলোকে দেখব তোমায় ২৩। মায়ার বাঁধন খুলে ২৪। লাজবতী ২৫। নিস্তরণ ২৬। সোহাগের পুত্তলিকা ২৭। রাহুগ্রস্ত সমাজ ২৮। ভালোবাসার আবেশ ২৯। হরতাল নামের বধির ৩০। বিবশ্যতার অন্ধকার ৩১। জিন্দালাশের স্তূপে বাঁচছি ৩২। প্রেমডুর ৩৩। স্বপ্নের কুহেলিকা ৩৪। ধরণি কাঁপে ত্রাসে ৩৫। লাঞ্ছিত নগরজীবন ৩৬। চেতনায় জাগো প্রাণ ৩৭। ভাবে মাতিব ভেজে ৩৮। মানুষ যে ভুখা ৩৯। কবির সাধের কবিতা ৪০। সাংস্কৃতিক অবক্ষয় ৪১। বিনোদিত করো দাহে ৪৩। নারী অনুভূতি ৪৪। বিভক্তির রাহুগ্রাস ৪৫। ছাড়তে হবে নিঠুর কলুষ ৪৬। বোশেখের উষ্ণতা ৪৭। কৃষকের বৈশাখ ৪৮। জীবনের আনন্দ ৪৯। জলচোর ৫০। জীবনানোভব ৫১। অনুভূত পৃথিবী ৫২। উত্তপ্ত পৃথিবী ৫৩। প্রেমাঘাত ৫৪। জাগরণ বাণী ৫৫। প্রেম স্ফীত ৫৬। প্রেমতত্ত্ব ৫৭। চৈত্র অবসান ৫৮। আমার মাঝে এসো ৫৯। ভালোবাসায় প্রতিদান ৬০। যত টুকু না ভালোবাস ৬১। বৈশাখি তাণ্ডব ৬২। পৃথিবীর বাঁধন ৬৩। চৈতি লগ্ন ৬৪। যৌবনা তির বিধলো বুকে ৬৫। এসো আমার বাটে ৬৬। ইচ্ছে হলে জ্বলো ৬৭। মাটির টান ৬৮। অপেক্ষা ৬৯। তুমি সেই তুমি নও ৭০। রাঙা ঠোঁটের ছোঁয়া ৭১। বসন্ত মায়া ৭২। তুষের প্রেম ৭৩। রূপসি বাংলা ৭৪। ভালোবাসার বুল ৭৫। গতি রুদ্ধ ৭৬। দুজনের দুজন ৭৭। প্রেমের লোডশেডিং ৭৮। যুদ্ধ থামো ৭৯। জীবনবাজির অগ্নিউৎসব ৮০। অধিকার হারা ৮১। চেতনায় জাগো ৮২। স্পন্দ-মান ৮৩। বিষাদের ভার ৮৪। রত্না ৮৫। প্রেমের আগ্নেয়গিরি ৮৬। টেকনোলজিক ধোঁকা ৮৭। বলো কবুল ৮৮। স্মৃতি ৮৯। তুমি নও, তবু তুমি ৯০। অতীত ৯১। তোমার কষ্টের সীমা ৯২। আমি বসন্ত ৯৩। সময় চিলাউট করার ৯৪। আছে শুধু দুঃখ ৯৫। স্মৃতির বহ্নিঘাত ৯৬। সময় খেলা জয়ের ৯৭। যুগল মিলন ৯৮। অনুভূতি ৯৯। প্রস্ফুটিত হও গণতন্ত্র ১০০। ফাগুন মিলন ১০১। আজ বসন্ত ১০২। বিচ্ছেদাদি ১০৩। স্রোত মৃত ‘রত্না’ ১০৪। কেমন আছো মা ১০৫। আলোর অপেক্ষা ১০৬। শারদ শোভা ১০৭। আলো স্নান ১০৮। প্রেমের হুলিয়া ১০৯। আমাদের গণতন্ত্র ১১০। দ্বীনহীনের প্রভু ১১১। কুহকী যৌবন ১১২। তাইতো আসা ১১৩। জ্বালা আর জ্বালা ১১৪। শারদ নিশীথ ১১৫। আপ্লুত প্রেমাবেগ ১১৬। বুকের চিহ্ন ১১৭। মাননীয় স্বাধীনতা ১১৮। বসন্তাগমন ১১৯। প্রণয়সন্ধি ১২০। বিষম অদ্ভুত দেশ ১২১। মমতাময়ী মা ১২২। ধরা দাও প্রিয়ে ১২৩। বিশ্বস্ত সাক্ষী ১২৪। সৃষ্টিধারা ১২৫। মুসলিম ১২৬। আদিম চিত্র ১২৮। সালাম ইসলামিক শিষ্টাচার ১২৯। কুহেলি ভাব ১৩০। মধু বসন্ত ১৩১। কনে বিদায় ১৩২। স্বাধীনতা নিঃস্ব ১৩৩। অলখ রুহু ১৩৪। না বলায় বিঘ্ন ভালোবাসা ১৩৫। জেগেছে তরুণ ১৩৬। মধুবালা ১৩৭। যৌবন ১৩৮। তুমি পারো ১৩৯। আর্চনা ১৪০। মেঘ-ঝরা বৃষ্টি ১৪১। কমল পদ্য ১৪২।

উপরন্তু আমরা কবির অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থের সাথে পরিচয় ঘটাতে এখানে তাঁর উল্লেখ করছি:

মদিনার পথে (ইসলামী গজল)

মুর্শিদ স্মরণে (ইসলামী গজল)

হৃদয় বাংলা (কবিতা)

ঈদে মিলাদুন্নবী ও জশনে জুলুছ (২০০৫-২০০৭)

সুর লহরী প্রথম খণ্ড

সুর লহরী দ্বিতীয় খণ্ড

সুর লহরী তৃতীয় খণ্ড

সুর লহরী চতুর্থ খণ্ড

একুশের সুর

প্রেমপুঞ্জ (কবিতা)

মতিয়ার চৌধুরী 

কবির অধিকাংশ বইয়ের ভূমিকা লিখেছেন: খ্যাতিমান গবেষক লেখক, মরমী গীতিকবি ও বরেণ্য সাংবাদিক: জনাব: মতিয়ার চৌধুরী

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

কবি: মোহাম্মদ ইউছুফ মিয়া নুনু 

জন্ম: মে ১৯৬৮ ইং সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাও ইউনিয়নের তেরাউতিয়া গ্রামে।

পিতা: মশহুর পীর ও মরমী গীতিকবি, শাহ মোহাম্মদ ইস্কন্দর মিয়া।

মাতা: মোছাঃ ফুলমালা তালুকদার।

পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

ব্যক্তিগত জীবন তিনি বিবাহিত।

শেষ কথা:

কবি মোহাম্মদ ইউছুফ মিয়া নুনু তাঁর “মেঘ ঝরা বৃষ্টি” কবিতা বইয়ের এক মলাটের ভেতরে, তিনি একাধারে প্রেমিক ভাবুক ধার্মিক, প্রকৃতি বিলাসী, সমাজ সংস্কারক, সাম্যবাদী, সাম্য-মৈত্রী শান্তি, মানবতাবাদী, প্রতিবাদী বিপ্লবী ও শান্ত সাধারণ, বহুমুখী কবি সত্তার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা আলোচ্য গ্রন্থের স্থায়িত্ব, বহুল প্রচার, কবির নেক, নীরোগ সুদীর্ঘায়ূ এবং কাব্য চর্চা ও লেখালেখির অব্যাহত সাফল্য কামনা করি।

মোঃ সাদিকুর রহমান রুমেন

আলোচক:

মোঃ সাদিকুর রহমান রুমেন 

কবি ও সমালোচক।

গ্রাম: জামালপুর, ডাক: দাওরাই বাজার,

উপজেলা: জগন্নাথপুর, জেলা: সুনামগঞ্জ।

More News Of This Category
© All rights reserved. pencraftmagazine.com-2025
 
Theme Customized BY LatestNews